সোমবার,২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১১ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



পর্তুগালের জাতীয় নির্বাচন : শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে প্রচারণা 


প্রবাস সংবাদ :
২৪.০৯.২০১৯

মোঃ রাসেল আহম্মেদ, লিসবন পর্তুগাল :

আগামী ৬ অক্টোবর পর্তুগালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জমে উঠেছে শেষ মূহুর্তের প্রচারণা। নির্বাচনী প্রচারণায় এবং বেশ কয়েকটি জনমত জরিপ এগিয়ে রয়েছে বর্তমান ক্ষমতাসীন সোসালিষ্ট পার্টি এবং তাদের জোট।

নির্বাচন উপলক্ষে স্থানীয় সময় সোমবারের ক্যাম্পেইন ছিল লিসবনের মেরকাদো সাপাদোরেস থেকে গ্রাসা হয়ে আলফামা প্রদক্ষিণ করে ফাদো মিউজিয়াম পর্যন্ত।

পর্তুগালের জাতীয় সংসদের স্পীকার ফেরো রদ্রিগেস, জুন্তা সান্তা মারিয়া মাইওরের প্রেসিডেন্ট মিগেল কয়েলু, সাও ভিসেন্ত প্রেসিডেন্ট নাতালিনা মউরা, মহানগরী সোশ্যালিস্ট সভাপতি সেরজিও সিন্ত্রা, ৭/৮ জন মন্ত্রী ও এম পি সহ উপস্থিত ছিলেন লিসবনের সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতৃত্ব স্থানীয় নেতাগন। উক্ত প্রচারণা র‍্যালিতে আরো উপস্থিত ছিলেন এইবারের প্রার্থীরা।

প্রচারণা র‍্যালি শেষে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বর্তমান ক্ষমতাসীন সোসালিষ্ট পার্টির স্থানীয় নেতা, লিসবন সিটি কাউন্সিলর ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব রানা তসলিম উদ্দিন এর সাথে।

তিনি বলেন, ৯০ এর দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশী পর্তুগালে এসেছেন। এর মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশী পর্তুগালের নাগরিকত্ব অর্জন করে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেশ হলো গ্রেট ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স , জার্মানি, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, স্পেন সহ আমেরিকা এবং কানাডা।

বাংলাদেশী পর্তুগীজ ছাড়াও পর্তুগালের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ লোকই যুগ যুগ ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসী হয়ে এসেছেন। তাই বর্তমান পর্তুগালের সোশ্যালিস্ট সরকার ইউরোপ থেকে ৪ জন ও ইউরোপের বাহিরের দেশ থেকে ৪ জন সহ মোট ৮ জনকে এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার জন্য মনোনয়ন দিয়েছে। এবং ইতিমধ্যে পর্তুগীজ নাগরিক যারা পর্তুগালের বাহিরে থাকেন, তারা ভোটের ব্যালট পেপার হাতে পেয়েছেন।

সোশ্যালিস্ট পার্টি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আন্তনিয় কোস্টাকে কেন ভোট দিবে বাংলাদেশি পর্তুগীজ নাগরিকরা তথা অভিবাসীরা এই প্রশ্নের উত্তরে রানা তসলিম উদ্দিন উল্লেখ করেন, ১৯৯৩, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৪, ২০০৭, ২০০৯ হতে আজ পর্যন্ত যত বার অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার আইন হয়েছে তা একমাত্র সোশ্যালিস্ট পার্টির মাধ্যমেই হয়েছে।

সর্ব প্রথম সোশ্যালিস্ট পার্টি আর্টিকেল ৮৮ পাশ করে, তার ফল স্বরূপ আজো এদেশে অভিবাসন ব্যবস্থা চালু আছে। ছয় বছর কোন অভিবাসী বৈধভাবে এদেশে থাকলে জাতীয়তার জন্য আবেদন করতে পারবে এই আইন সোশ্যালিস্ট পার্টি প্রনয়ন করেছেছিল এবং পরবর্তীতে তা মেয়াদ কমিয়ে ৫ বছরে নিয়ে এসেছেন আমাদের পার্টির শাসন আমলেই।

তাছাড়া আন্থনিয় কোস্টা বর্তমান প্রধান মন্ত্রী যখন লিসবনের মেয়র ছিলেন তিনিই বাংলাদেশিদের জন্য একটি মসজিদ কমপ্লেক্স করার ঘোষণা দেন এবং তার জায়গা নির্ধারণ করেন। নির্মাণ খরচও দিবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। যা আমদের বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকাতেই হবে, এখন তা শুধুই সময়ের ব্যাপার।

সোশ্যালিস্ট পার্টির মাধ্যমেই ২০১৪ সালে আমাদের স্থানী শহীদ মিনার স্থাপিত হয় এবং সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দদের অনুমতির মাধ্যমেই ২০১১ থেকে প্রতি বছর আমরা খোলা মাঠে দুই ঈদের জামাত আদায় করতে পারি। যা পর্তুগালের ইতিহাসে গত এক হাজার বছরে কেউ করতে পারেনি। একমাত্র সোশ্যালিস্ট পার্টিই আমাদের এই ইসলামী ধর্মীয় উৎসব করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

তিনি আহবান জানান আসুন, আমরা যারা বাংলাদেশী অভিবাসী এই দেশের নাগরিক আমরা ভোটে অংশ গ্রহন করি। সোশ্যালিস্ট পার্টিকে ভোট দেই। আন্থনিয় কোস্টা আমাদের বন্ধু, আন্থনিয় কোস্টা বিদেশীদের বন্ধু এবং তিনি ইন্ডিয়ান বংশদ্ভূত। যিনি গত দশ বছর মেয়র থাকাকালীন পুরো লিসবনের চেহারা পাল্টে দিয়েছেন এবং দেশ শাসনে অত্যন্ত পারদর্শী যা গত ৪ বছরে তিনি পর্তুগালে তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মানুষকে চাকুরী দিয়ে বেকার সমস্যা দূর করেছেন।

তাছাড়া তিনি আরো উল্লেখ করেন, আগামী ৫ ও ৬ অক্টোবর প্রত্যেক দেশের এম্বাসিতে ভোট গ্রহন করা হবে, এম্বাসিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে পারবেন অথবা ডাক যোগে চিঠির মাধ্যমে আপনার কাছে পাঠানো ব্যালটের নির্দিষ্ট ঘরে ক্রস চিহ্ন দিয়ে ফেরত পাঠাতে পারেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি