বুধবার,৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং,২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : মেডিকেল সেন্টারের পর ট্রেনিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণে নিতে দৌড়ঝাঁপ



মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার : মেডিকেল সেন্টারের পর ট্রেনিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণে নিতে দৌড়ঝাঁপ


প্রবাস সংবাদ :
৩১.০৮.২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদক :

দুর্নীতি-অনিয়ম ও শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ নানা অভিযোগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ ঘোষণা এক বছর পূর্ণ হচ্ছে সেপ্টেম্বর থেকে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত বাজারটি খোলার বিষয়টি চুড়ান্ত হয়নি। কিন্তু তাতে কি? বসে নেই উভয় দেশের ব্যবসায়ী মহল। বাজারটি নিজেদের আয়ত্বে নিতে দুটি গ্রুপ সক্রিয়া রয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায়।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী সেপ্টেম্বরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। আগামী মাসের মধ্যেই বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হতে পারে।

সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে শুরু থেকেই দুটি ব্যবসায়ী গ্রুপ নিজেদের আয়ত্ত্বে নিতে চেষ্টা তদবির করে আসছিলেন। বাংলাদেশের এই ব্যবসায়ী গ্রুপের সাথে মালয়েশিয়ারও দুইজন ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান বাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে টানাটানি করছেন। গত বার মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী বাংলাদেশি  বংশোদ্ভুত দাতো আমিন নুরের প্রতিষ্ঠান সিনারফ্ল্যাক্স অনলাইন সিস্টেম এসপিপিএ ও মেডিকেল কোম্পানি বেস্টিনেট মেডিকেল সেন্টারগুলোর দায়িত্ব পায়। আমিন নুরের এই দুই প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের ১০ রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করে। মাহাথির  সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে গত সেপ্টেম্বর থেকে বাজারটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সাথে বাতিল করা হয় আমিন নুরের অনলাইন সিস্টেম সিনারফ্ল্যাক্সের এসপিপিএ। কিন্তু থেকে যায় বেস্টিনেটের মেডিকেল সেন্টারগুলো। ঢাকায় বেস্টিনেট অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলো হতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে শ্রমিক নেওয়া য়।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, এবার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হতে তিনটি সিস্টেম ডেভলপমেন্ট করা হচ্ছে। একটি হচ্ছে যেসব কর্মী মালয়েশিয়া যাবে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল সেন্টার। দ্বিতীয়টি হচ্ছে যারা যাবে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ করে কন্সট্রাকশন খাতের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নেওয়া হবে। সেজন্য ট্রেনিং সেন্টারও থাকছে। তৃতীয়ত কোন সিস্টেমে কর্মীগুলো যাবে, এই বিষয়টি  উভয় সরকার চুড়ান্ত করবে।

সূত্রটি জানায়, দাতো আমিন নুরের সিনারফ্ল্যাক্সের অনলাইন সিস্টেম এসপিপিএ মালয়েশিয়া সরকার বাতিল করেছে। কিন্তু তার মেডিকেল প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটকে আগের মতোই রেখে দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। ঢাকায় বেস্টিনেটের যেসব মেডিকেল সেন্টার আছে সেগুলো বহাল থাকবে, সাথে আরো কয়েকটি যোগ হতে পারে। যদিও মাঝখানে কয়েক মাস আগে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত মালয়েশিয়ান আরেক ব্যবসায়ী দাতো হানিফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, বায়রাসহ এ সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাত করেছেন। তারা বেশ কিছু মেডিকেল সেন্টারও পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত আর মেডিকেল সেন্টার নিয়ে এগুতে পারেননি দাতো হানিফ।

তাই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুললে ট্রেনিং সেন্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়াবে। তাই এই ট্রেনিং সেন্টার দখলে নিতে বাংলাদেশের প্রভাবশালী কিছু জনশক্তি ব্যবসায়ীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মালয়েশিার একটি গ্রুপ কাজ করছে।

সূত্র নিশ্চিত করে, গত সপ্তাহে আশুলিয়ার সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজের সাউথ পয়েন্ট স্কিল সেন্টার গোপনে পরিদর্শন করে মালয়েশিয়ার মালয়েশিয়ার কন্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড- সিআইডিবির একটি প্রতিনিধি দল।

সাউথ পয়েন্ট ওভারসিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুর  কাদেরের দাবী, ব্যক্তিগত যোগাযোগেই মালয়েশিয়ার ওই প্রতিনিধি দল তার ট্রেনিং সেন্টারটি পরিদর্শনে এসেছিলেন। একই টিম গত সপ্তাহে আরো কমপক্ষে ৫টি ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করে।

এসব বিষয়ে অবশ্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ গত বৃহস্পতিবার আবারো স্পষ্ট করে বলেছেন, মালয়েশিয়ায় কোনো সিন্ডকেট হব না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি