বৃহস্পতিবার,৯ই এপ্রিল, ২০২০ ইং,২৬শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,
  • প্রচ্ছদ » জাতীয় » প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করাতে গিয়ে ভুয়া ভিসাসহ ২ দালাল আটক



প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করাতে গিয়ে ভুয়া ভিসাসহ ২ দালাল আটক


প্রবাস সংবাদ :
২৫.০৮.২০১৯

সৌদি আরব গমনেচ্ছুক তিন ব্যক্তির পাসপোর্টের ফটোকপির ঠিকানা টেম্পারিং করে রেজিস্ট্রেশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট করানোর সময় সৌদি আরবের ভুয়া ভিসাসহ দালাল আনোয়ার হোসেন (৩৮) এবং তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম (২৪) নামের দুইজনকে হাতে নাতে গ্রেফতার করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমান আদালত। আজ রোববার দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিচতলায় র‌্যাব-৩ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুর রহমানের (উপসচিব) নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভিসাসহ দালাল আনোয়ার হোসেনকে এক বছর  এবং তার সহযোগী প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ক্লিনার (আউটসোর্সিং)  সাইফুল ইসলামকে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

জানা যায় যে, দালাল আনোয়ার হোসেন ও তার সহযোগী সাইফুল ইসলাম তাদের মূল পাসপোর্ট নিয়ে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট করানোর সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের সকল কাগজপত্র জব্দ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ভবণের নিচ তলায় শুধু ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর ও বি-বাড়িয়া-এই চার জেলার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও রেজিস্ট্রেশন করানো যায়। দেশের অন্য জেলার বাসিন্দাদের এখান থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও রেজিস্ট্রেশন করতে হলে বিএমইটির ডিজি বা ইমিগ্রেশন  পরিচালকের অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া বিশেষ কিছু প্রফেশনের ক্ষেত্রে অনস্টপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা প্দিরদান সাপেক্ষে ইমিগ্রেশন এক ডিডির তত্বাবধানে হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট করা যায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে যে তিনজনের পাসপোর্ট টেম্পারিং করার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের বাড়ি ঢাকার বাইরে। ঢাকার ঠিকানায় তারা রেজিস্ট্রেশন ও ফিঙ্গার করানো হচ্ছিল। আর তাদের দেওয়া সৌদি আরবের ভিসাও জাল বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিনজনকে সৌদি আরব প্রেরণের নামে ভুয়া ভিসা দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে ৪২ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহণ করেছে এবং প্রতিজনকে সৌদি আরব প্রেরণের লক্ষ্যে তিন লাখ টাকা করে দাবি করেছে গ্রেফতার হওয়া দালাল আনোয়ার ও সাইফুল। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাদের উপর আনীত অভিযোগ স্বীকার করেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুর রহমান অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩’ এর ৩১(খ) এবং ৩৫ ধারা অনুযায়ী ০১ (এক) বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সাইফুল ইসলামকে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩’ ৩৫ ধারা বলে ০১ (এক) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। অভিযুক্তদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরের খুবাছপুরে এবং সাইফুল ইসলামের বাড়ি ফেনী জেলার দক্ষিণ খানেবাড়ি গ্রামে।

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি