মঙ্গলবার,২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



ব্রুনাইয়ে দূতাবাসের ভেতর ‘ভিসা দালাল’কে মারধর করলো প্রবাসী শ্রমিকরা


প্রবাস সংবাদ :
২৩.০৮.২০১৯

 

বিশেষ প্রতিবেদক : 

গত কয়েকদিন হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি কক্ষে চেয়ারে বসে আছেন এক কর্মকর্তা। পাশের সোফায় বসা ও  দাঁড়িয়ে আছেন  কয়েকজন ব্যক্তি। এক যুবককে পালাক্রমে কেউ লাথি মারছে, কেউ বা ঘুষি মারছে বা ঘাড় ধরছে।

ভিডিওটি প্রবাস সংবাদের হাতেও এসেছে। জানা যায়  ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ব্রুনাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ  দূতাবাসের। দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের কক্ষের ঘটনা এটি। ওই কর্মকর্তার সামনেই যাকে মারা হচ্ছে তার নাম কামরুল। তিনি ব্রুনাই প্রবাসী। শ্রমিক হিসেবে গেলেও জড়িয়ে পড়েছেন ভিসা ট্রেডিংয়ে। ভাল বেতন ও ভাল কাজের কথা বলে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি। তার সাথে রয়েছে শক্তিশালী একটি চক্র।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন-

গত জুলাই মাসে এ রকম কয়েকজন শ্রমিককে ভাল বেতনে চাকরির কথা বলে ব্রুনাইতে নিয়ে যান কামরুল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের কাজ দিতে না পারায় প্রতারণার শিকার ওইসব শ্রমিক বাংলাদেশ দূতাবাসে অভিযোগ দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কামরুলকে দূতাবাসে হাজির করা হয়।

ব্রুনাইতে শ্রমিক নিতে হলে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের সত্যায়ন বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেটা না করে বডি কন্টাকে বিমানবন্দর দিয়ে  শ্রমিকদেরকে ব্রুনাইয়ে নিয়েছেন এই কামরুল। ব্রুনায়স্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে জেরা করার এক পর্যায়ে কামরুল এ বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।  নাম বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে বিমানবন্দর কন্টাকে কীভাবে কার সহযোগীতায় তিনি শ্রমিকদের ব্রুনাইতে নিয়ে যান, সে কথাও।

গত জুলাইয়ের শেষের দিকে মো. ফিরোজ মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মো. আউয়াল, মারুফ ও মোস্তফা নামে কয়েকজনকে ভাল বেতনের কথা বলে ব্রুনাই নিয়ে যান কামরুল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের কাজ দিতে পারেননি। খেয়ে না খেয়ে মানবতার জীবনযাপন করছেন তারা। ক্ষুব্ধু এসব শ্রমিক দূতাবাসের কর্মকর্তার সামনেই এভাবে মারধর করেন কামরুলকে।

মারধরের শিকার হওয়া কামরুলের এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দূতাবাসের ওই কর্মকর্তার বিচার চেয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ আরো কিছু দপ্তর ও গুরুত্‌পূর্ণ ব্যক্তিবর্গের কাছেও পাঠানো হয়েছে ভিডিওটি।

সূত্র বলছে, সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কামরুল ব্রুনাই গেলেও মানবপাচারকারী বড় একটি চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নিজেরাই কোম্পানি খুলে প্রতারণার জাল বুনেছেন তারা। ব্রুনাই দূতাবাস সূত্র জানায়, কামরুলের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অনেকেই এ রকম প্রতারণার জাল ফেলেছেন। ব্রুনাইয়ের স্থায়ী বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে কোম্পানি খুলে ভিসা ট্রেডিংয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। এমন কোনো গর্হিত কাজ নেই যে তারা করেন না। তাদের মতে, পরিকল্পিতভাবেই দূতাবাসের ভেতরে প্রতারণার শিকার ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মারধরের শিকার কামরুলের ভিডিওটি ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে কামরুলকে মারধরের ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা চলছে ফেসবুকসহ সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই মনে করছেন, কামরুল দালাল হোক আর যাই হোক দূতাবাসের ভেতর এ রকম মারধর করা ঠিক হয়নি। অনেকেই আবার বাহ্ বাহ্ দিচ্ছেন। কামরুল যদি সত্যিই দালাল হয়ে থাকে তাহলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও দাবী তুলছেন।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি