শুক্রবার,১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং,২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



পর্তুগাল প্রবাসী উদ্যমী তরুণ উদ্যোক্তা জিয়াউর রহমান নিপু


প্রবাস সংবাদ :
২২.০৮.২০১৯

মোঃ রাসেল আহম্মেদ, (লিসবন পর্তুগাল) :

জিয়াউর রহমান নিপু, বাংলাদেশের অনগ্রসর একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা ছেলে। যার শৈশবকাল, শিক্ষা জীবন, পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রাম, ক্যারিয়ার গঠনের অদম্য স্পৃহা, পরিবার , ধর্ম , সাংসারিক জীবন সহ বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে পর্তুগালের জনপ্রিয় অভিবাসন বান্ধব পত্রিকা ‘জার্নাল দা মুরারিয়া’ তে তাদের ১১ তম সংখ্যায় তার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার , ক্যারিয়ার এবং অভিবাসন জীবনের নানান দিক নিয়ে কভার স্টোরি করেছে যা প্রকাশ হয়েছে গত ১০ অগাস্ট।

২০০৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেয়ার পরপরই একজন বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে মাত্র ১৮০০ টাকার বেসিক সেলারি নিয়ে প্রাণ কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন। একাগ্রতার সাথে এই কোম্পানিতে ১৫ মাস করার পর জোনাল ম্যানেজার হিসাবে পদোন্নিত পান এবং পরবর্তীতে ১৮ মাস জোনাল ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় “এক্সপোর্ট মার্কেট ডেভলপমেন্ট ম্যানেজার ” হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে আফ্রিকা মহাদেশে প্রান-আর এফ এল পণ্যের বাজার সম্প্রসাণ করার দায়িত্ব পান। এর মাঝে চাকুরী চলাকালীন অবস্থায় কিছু টা অনিয়মিতভাবে একাডেমিক ক্লাস না করেই ২০০৭ সালে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হন।

সেই থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৫ সাল পর্যন্ত , দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি আফ্রিকা, ইউরোপ এবং মধ্য প্রাচ্য সহ বিশ্বের ভিবিন্ন দেশে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আফ্রিকার দেশ গুলো রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক যোগাযোগ এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও আজ বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য বিপণনের কারণে আফ্রিকান জনগণের কাছে বাংলাদেশ একটি খুব ই পরিচিত দেশের নাম সেখানে।

বর্তমানে বাংলাদেশ আরেকটি অন্যতম বৃহৎ খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সজীব গ্রুপ এ আফ্রিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের দেশগুলোতে বাজার সম্প্রসারনে সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসাবে কাজ করছেন।

ইতিমধ্যে বিশ্বের ৩৮ টি দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির পন্যের বাজার সম্প্রসারণের কাজে ভ্রনণ করেছেন। ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, পর্তুগিজ সহ ৬ টি ভাষাতে কথা বলতে পারদর্শী তিনি। বর্তমানে পর্তুগাল এ অফিসিয়াল হেড কোয়ার্টার করে আফ্রিকা এবং ইউরোপীয় দেশ গুলোর বাজার সম্প্রসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের খাদ্য পণ্যের উপস্তিতি এবং এর সম্ভবনাময় বাজার সম্পর্কে জনাব রহমান বলেন , আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য পণ্যের উপস্তিতি বা বর্তমান মার্কেট শেয়ার খুবই কম। সাধারণত বাংলাদেশী কোম্পানি গুলো বাংলাদেশী প্রবাসী অধ্যষিত দেশ গুলোতেই বেশি রপ্তানি করে থাকেন এবং সেখানে বাংলাদেশী মালিকানাধীন গ্রোসারি শপ বা সুপার মার্কেট গুলোতেই দেশীয় পণ্যের বেশি উপস্তিতি দেখা যায়। সেই হিসাবে মূলধারার মার্কেট শেয়ার থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।

তিনি বলেন , বিশ্ববাজারে বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্য পণ্য বাজারজাতকরণের একটি অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রফতানি আয় বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ ও রয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ গুলোকে আরো তৎপর হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট এসোসিয়েশন গুলোকে বৈদেশিক বাজারের ধরণ , তাদের খাদ্যাভ্যাস , প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারক দেশগুলোর বিক্রয় নীতি বা কর্মপন্থা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে আমাদের রফতানি নীতি বা কর্মপন্থা তৈরী করতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশী তরুণ এই উদ্যোক্তা লিসবনে বসবাস করছেন। দাম্পত্য জীবনে দুই কন্যা সন্তানের পিতা এবং স্বপরিবারে লিসবনে বসবাস করছেন। এপ্রসঙ্গ কথা হলে তিনি উল্লেখ করেন কাজের সুবাদে আমি তিন ডজন এর বেশী দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু পর্তুগাল আমার কাছে এবং আমার পরিবারের কাছে ভাল লেগেছে। বিশেষ করে এখানকার আবহাওয়া, মানুষজন এবং সহজ অভিবাসন নীতি ।

পর্তুগাল বিশ্বের সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে মাত্র পাঁচ বছর বৈধ ভাবে বসবাস করলে নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। এখানে বৈধভাবে প্রবেশ করে কিছু নিয়ম কানুন মেনে সহজেই বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায়। তাছাড়া ইউরোপ তথা বর্হি বিশ্বের তুলনায় এখানে বর্ণ বৈষম্য একে বারে নেই বল্লেই চলে। তাই এখানে স্থানী ভাবে বসবাসের সিন্ধান্ত গ্রহন করি।

উল্লেখ জিয়াউর রহমান নিপুর জন্ম বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া। অদূর ভবিষ্যতে একটি অনলাইন ভিত্তিক আই টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশীয় পানীয় ও খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে ইউরোপ, আফ্রিকা সহ আন্তর্জাতিক বাজারের ভিবিন্ন আমদানিকারক এবং বণিক সম্প্রদায় গুলোর সাথে একটা সেতুবন্দন তৈরী করতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি