মঙ্গলবার,২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,
  • প্রচ্ছদ » পর্যটন » পর্ব-০১
    দক্ষিণ কোরীয়া প্রবাসীর সিঙ্গাপুর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা



পর্ব-০১
দক্ষিণ কোরীয়া প্রবাসীর সিঙ্গাপুর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা


প্রবাস সংবাদ :
০৮.০৮.২০১৯

মোহাম্মদ আল আজিম : 
ভ্রমণ বিষয়ে বিখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক মার্ক টোয়েন বলেছেন ‘আজ থেকে বিশ বছর পর আপনি এই ভেবে হতাশ হবেন যে,আপনার পক্ষে যা যা করা সম্ভব ছিল তা করতে পারেননি। তাই নিরাপদ আবাস ছেড়ে বেরিয়ে পড়ুন এবং  আবিষ্কারের জন্য যাত্রা করুন,স্বপ্ন দেখুন আর শেষমেশ আবিষ্কার করুন।
লেখক মার্ক টোয়েনের বিখ্যাত এই উক্তিটি  সত্যিই আমাকে জানতে শিখিয়েছে, আজ আমি সিঙ্গাপুর ভ্রমণে এসে উপলব্ধি করছি লেখক টোয়েনের বিখ্যাত এই বাণী, এখন মনে হচ্ছে যদি সময়ের জন্য দেশটিতে ভ্রমণে আসতে পারতাম। যাই হোক আজ আমার সিঙ্গাপুর ভ্রমণের প্রথম দিন তাই আজকের দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে চাই পত্রিকার পাতায় এবং আশা করি আপনাদেরও অনেক কাজে আসবে আমার এই বাস্তব অভিজ্ঞতা।
আমি দক্ষিণ কোরিয়াতে চাকরি করি, এখন মোটামুটি কোরিয়াতে অনেক গরম পরতে শুরু করেছে তাই ভাবলাম কোরিয়ার বাহির থেকে একটি ট্যুর দিয়ে আসা যেতেই পারে, সেই ভাবনা থেকেই সিঙ্গাপুর ভ্রমণে এসেছি।
১৪ জুলাই রাত ৮:১৫ মিনিটে আমার ফ্লাইট ছিল ইনছন এয়ারপোর্ট থেকে, আমার বর্তমান কর্মস্থল  আনসান সিটি, বিকেল ৬ টয় টেক্সি ভাড়া করে ইনছন এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেলাম, এয়ারপোর্টে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট লেগে গিয়েছে, গিয়ে দেখি বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে। বোর্ডিং পাস নিয়ে নিলাম, শুধু পাসপোর্টটি এগিয়ে দিলেই বোর্ডিং পাস দিয়ে দেয়।
এখানে একটি বিষয় যোগ না করলেই নয় সেটি হলো ইনছন এয়ারপোর্ট যাত্রী সেবার দিক থেকে খুবই এগিয়ে, বিদেশিদের সাথে খুবই ভদ্র আচার ব্যবহার যেমন করে তেমনই নিজ দেশের মানুষদের সাথে খুবই ভদ্র আচরণ করতে দেখা যায় এয়ারপোর্টে কর্মরত স্টাফদের মধ্যে। শুধু এয়ারপোর্টের কথা বললে ভুল হবে এই আধুনিক বিশ্বে নাগরিক সুযোগ সুবিধা ও উন্নত জীবন যাত্রার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া বেশ পরিচিত।
যাই হোক ইমিগ্রেশন ফরম পূরণ করে ফেললাম, সব কিছু চেক হলো, ইমিগ্রেশনের সকল কাজ সম্পন্ন করলাম, সময় মত বিমান টেকঅফ করছে ৮:৩০ মিনিটের ফ্লাইটে আমি বিমানে উঠে পরলাম।  বিমানে গল্প করতে করতে প্রায় রাত ১০:৫৫ মিনিটে হংকং এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করে আমাদের বহন কারি বিমান, হংকং থেকে ট্রানজিট হয়ে সিঙ্গাপুর  চাঙ্গি বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সাড়ে চার ঘণ্টার মত সময় লেগে গিয়েছে প্রায়। একটি বিষয় জানিয়ে রাখি তা হলো ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইন্সে চাইনিজ খাবার দেওয়া হয় কিন্তু আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন তাহলে হালাল খাবারের জন্য টিকিট বুকিং এর সময় আপনি হালাল খাবার চান এমন একটি ঘর রয়েছে টিক দিলেই হবে, বিমানে আপনাকে হালাল খাবার দিবে।
এর পর চাঙ্গি বিমানবন্দরে নেমে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করে সরাসরি আমি হোটেলে চলে যায়, আমি সিঙ্গাপুর গিয়েছি ভ্রমণ করতে সেক্ষেত্রে আমার লক্ষ্য ছিলো বাস অথবা ট্রেনে চলাফেরা করব। আপনিও যদি বাসে অথবা ট্রেনে চলাফেরা করেন তাহলে অনেক গুণ খরচ কম হবে কিন্তু পুরো সিঙ্গাপুর যদি আপনি ঘুরে দেখতে চান তাহলে ট্যাক্সিতে করে ৪ ঘন্টায় শেষ করতে পারবেন, আমাকে এমনই কথা বলেছেন সেখানকার ট্যাক্সি চালকরা।
সিংহের শহর নামে পরিচিত হলেও সিঙ্গাপুর দ্বীপে কোনো সিংহ নেই, এমন কি অতীতেও কখনোই ছিলো না, বলছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তবে সিঙ্গাপুরবাসী মনে করেন মার্লায়ন সিংহ মৎস্য তাদের গর্ব ও বিত্তের প্রতিক, মেরিনা’বে নামের পাশেই মার্লায়ন পার্কে অবস্থিত বিখ্যাত  সিংহ মৎস্য।
মেরিনা’বে স্যান্ডস হলো সিঙ্গাপুরের মেরিনা’বে এলাকায় অবস্থিত একটি বিলাসবহুল হোটেল,লাসভেকাস সেন্স কর্পোরেশনের মালিকানায় ২০১০ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হবার পর থেকে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামী একক ক্যাসিনো। নির্মাণ খরচের বিবেচনায় এটি বিশ্বের চতুর্থ ব্যয়বহুল ভবন। বিলাসবহুল মেরিনা’বে দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটকদের আনাগোনা হয়ে থাকে। সেখানেও সিংহ মৎস্য ছাড়াও সিঙ্গাপুরের একাধিক স্থানে কাল্পনিক প্রাণীটির মূর্তি দেখা যায়।
প্রিয় পাঠক আগামী পর্বে আপনাদের জন্য থাকছে সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে সুন্দর দর্শনীয় স্থান মেরিনা’বে ও মার্লায়ন পার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত, সে পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন।
লেখক : সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি