শুক্রবার,১০ই এপ্রিল, ২০২০ ইং,২৭শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



আসামের কাজীরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ


প্রবাস সংবাদ :
০৪.০৮.২০১৯

কাওসার আজম :

বাংলাদেশের প্রতিবেশি বন্ধু দেশ ভারত। বাংলাদেশের সীমান্তঘেষা রাজ্য আসাম। আসামের মানুষ অসমীয় ভাষায় কথা বলেন। এরপরেই রয়েছেন বাংলা ভাষাভাষী। আসামের জীব-বৈচিত্রময় এলাকা কাজীরাঙ্গা। যেখানে রয়েছে সাফারি পার্ক বা বন্যপ্রাণী অভয়ারন্য। বাঘ-হাতি থেকে শুরু করে নানা প্রাণী। যেটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

এই কাজীরাঙ্গাতে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কাজীরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়। আসাম প্রদেশে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান এবং একবিংশ শতাব্দীর বাজার চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি নর্থ ইস্ট এর নলেজ ফাউন্ডেশন অব খিতান ইন্ডাস্ট্রির গ্রুপ এর সিএসআর বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রাকৃতিক পরিবেশ ও পর্যটন প্রেমিদের কাছে এমনতিই কাজীরাঙ্গা প্রিয়। সেই এলাকাতেই ৫০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। শান্ত পরিবেশ এর নিশ্চয়তা দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখছে। অল্প দিনেই সুনাম ছড়িয়েছে চারিদিকে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারে যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হল এটি ছাত্রদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে উত্তর-পূর্ব ভারতে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি  অনেকগুলো অনুষদ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদটি আই বি এম, বি ও এস সি এইচ এর মত অনেকগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে তাদের প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির একবিংশ শতাব্দীর চাহিদা পূরণে বিবিএ, এমবিএ, ব্যাংকিং এবং ফাইন্যান্স, লজিস্টিক এন্ড সাপ্লাই চেইন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর মত অনেকগুলো আধুনিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়  শিক্ষা প্রদান করে চলছে।

সম্প্রতি  স্কুল অফ হেলথ সাইন্স নামে নতুন একটি  অনুষদে র যাত্রা শুরু হয়েছে যেখানে আধুনিক মানের স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান প্রদান করা হয়ে থাকে। অনুষদটি ওয়ার্ল্ড অ্যাপোলো গ্রুপ এর সাথে যৌথভাবে ব্যাচেলর কোর্স প্রদান করছে।

এই অনুষদ হতে ব্যাচেলর অফ ফিজিওথেরাপি, অপ্টোমেট্রি ডায়ালাইসিস, অপারেশন থিয়েটার টেকনোলজি, মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি, অ্যাডভান্স ইমেজিং টেকনোলজি, এমার্জেন্সি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এর উপর ডিগ্রি প্রদান করে থাকে।

কাজিরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়টি জাপানের নাগাসাকি ওয়েসলেয়ান ইউনিভার্সিটি এবং সিলভার পিক এর সাথে বিশেষ উদ্যোগে শিক্ষা কারিকুলাম পরিচালনা করার প্রয়াসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে।বিশ্ববিদ্যালয়টির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার ছাত্রদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে

এখানে ছাত্ররা একাডেমিক শিক্ষার সাথে সাথে বাস্তব জ্ঞান আহরণের জন্য বিভিন্ন শিল্প কারখানার সাথে যেন কাজ করতে পারে সেই আঙ্গিকে বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করে চলছে এবং সেই অনুযায়ী ছাত্রদেরকে পরিচালনা করে থাকে সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে।

ছাত্রদেরকে ব্যবহারিক শিক্ষার প্রশিক্ষণ এর সাথে সাথে তাদেরকে দেশ এবং দেশের বাইরে যেমন মুম্বাই দিল্লি কলকাতা পুনে সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার মতো উন্নত এবং স্বল্প উন্নত বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা মাধ্যমে সহযোগিতা করে থাকে।

কাজিরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য দিক হলো এটি তার ছাত্রদের শতভাগ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সফলতা অর্জন করছে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান এর দিক থেকে পিছিয়ে নয়।

২০০৯  সালে প্রযুক্তি অনুষদের সকল বিষয় সহ বাণিজ্য অনুষদ যেমন এমবিএ বিবিএর ছাত্র রা দেশ ও বিদেশের  আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অনেক প্রতিষ্ঠান যেমন এমিরেটস হসপিটাল দুবাই অডি জার্মানি মতো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্য সব চমৎকার অর্জন গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এখানে ছাত্ররা বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী হিসেবে অধ্যায়নরত রয়েছে

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় হল সিউল নেশনাল ইউনিভার্সিটি অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ইউ এস এ কে টি এইচ রয়েল ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি নেশনাল কলেজ অফ

আয়ারল্যান্ড পলিটেকনিক মিলানো ইতালি এসিয়ান ইন্সটিউট অফ টেকনোলজি থাইল্যান্ড ইনভারসিটি অফ নিউ মেক্সিকো ইউ এস এ ইনভারসিটি অফ দেলফট নেদারল্যান্ডস অন্যতম

এখানে অনেক ছাত্র আন্তর্জাতিক পরীক্ষা সমূহ যেমন এন ই টি এস এল ই ডি জে এম জিএটি এর মত অনেক পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র টিচ ফর ইন্ডিয়া ফেলোশিপ প্রোগ্রাম সাইন্স অ্যাক্যাডেমিক রিসার্চ ফেলোশিপ প্রোগ্রাম সায়েন্স সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া পি এস এস আই রিসার্চ ফেলোশিপ প্রোগ্রাম এ সরাসরি যুক্ত হয়ে গবেষণা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সচেতনভাবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এন্ট্রান্স পরীক্ষা তথা যোগ্যতা প্রমাণ মূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করার কারণে  জি এ টি ই , জি আর ই, জি ম্যাট টোফেল এর মত পরীক্ষায় তারা সফলভাবে অংশগ্রহণ করছে।

জানা যায়, কাজীরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন রকম কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে কাজিরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয় আসাম স্টার্ট আপ দ্যা নেক্সট এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ এন্টারপ্রিনিউরশিপ এর সাথে জেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরীর জন্য সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে যার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং জ্ঞান ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং ইনকিউবেশন সেল গঠন করেছে।

কাজিরাঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হল একটি বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ নিশ্চয়নের মাধ্যমে  আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেখানে ব্যয় সাধ্য পড়াশোনা সুযোগ সকল নাগরিকদের জন্য  রয়েছে। ব্যক্তিত্ব বোধের চেতনা বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়টি পারস্পরিক সহযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা  সরবরাহ করছে।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি