শুক্রবার,৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং,২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



মিয়ানমারের সাথে সামনাসামনি কথা বলতে চায় রোহিঙ্গারা


প্রবাস সংবাদ :
২৮.০৭.২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল ও রোহিঙ্গারা সন্মত হয়েছেন। মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা ছাড়াও বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন ওই আলোচনায়।’

প্রত্যাশিত ওই আলোচনা কবে নাগাদ হবে তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে গতকাল শনিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে মিয়ানমারের প্রতিনিধিদল ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠকে আগামী দিনে প্রত্যাবাসন বিষয়ে আলোচনা, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মিয়ানমারে নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে রোহিঙ্গা নেতারা অনেকটাই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অনেকের মুখেই ছিল মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আশা। তাঁদের একজন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, এবার হয়তো বা বাপ-দাদার ফেলে আসা ভিটে-বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পথ খুলবে।’

কক্সবাজারের উখিয়ায় কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরের ৪ নম্বর বর্ধিত ক্যাম্প ইনচার্জের অফিসে গতকাল রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে উভয় পক্ষ মিয়ানমারের রাখাইনে ফেরার বিষয় নিয়ে ‘ডায়ালগে’ (আলোচনায়) বসতে রাজি হয়েছে। রোহিঙ্গা নেতারা মনে করছেন, সমস্যার সমাধানে উভয় পক্ষের মধ্যে ‘ডায়ালগের’ কোনো বিকল্প নেই।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রসচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল বিমানযোগে গতকাল সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌঁছেন। প্রতিনিধিদলটি বিমানবন্দর থেকে ইনানী সৈকতের হোটেল রয়েল টিউলিপে যান। সেখানে তাঁরা শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হন। বৈঠক শেষে দুপুর ১টার দিকে তাঁরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম। প্রতিনিধিদলটি দুপুর দেড়টা থেকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শুরু করে। ওই সময় রোহিঙ্গাসংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

‘এরপর প্রতিনিধিদলটি ১২ জন নারীসহ ৪০ সদস্যের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসে। ওই সময় প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। মিয়ানমারে ফিরে গেলে সেখানে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে সে বিষয়েও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের ধারণা দেন তাঁরা। তখন রোহিঙ্গারাও বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন।’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি