শুক্রবার,৩রা এপ্রিল, ২০২০ ইং,২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



‘দালালেই শ্রমিকের সর্বনাশ’


প্রবাস সংবাদ :
২৮.০৭.২০১৯

‘মালয়েশিয়ায় অনুসন্ধানকালে ‘দালাল’ শব্দটা শুনতে শুনতে মুখস্থ হয়ে যায়। এই দালালরা বেশির ভাগই বাংলাদেশি। তাদের প্রতারণা-কারসাজিতে পড়ে নিজের দেশের শ্রমিকদের জীবন আজ বিপন্নপ্রায়।’

শ্রমিকদের মুখে অভিযোগের অন্ত নেই এই দালালদের বিরুদ্ধে। দেশের একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ থেকে শুরু করে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত তার পেছনে রক্তচোষার মতো লেগে থাকে দালাল।

এক দালালের নাম পেণ্ডে আলী। প্রচার আছে, নৌপথে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেওয়ার মূল হোতা তিনি। এই পেণ্ডে আলীর প্রতারণার শিকার ২৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের দেখা মিলল কুয়ালালামপুরের পান্ডান ইন্দার এলাকায়। টাকা দিয়েও বৈধ হতে পারেননি এই ২৫ জনের একজন শহিদুল ইসলাম। তিনি জামালপুরের মাদারগঞ্জের তারতাপাড়ার নওয়াব আলীর ছেলে। শহিদুলকে বৈধ করার কথা বলে প্রথমে চার হাজার রিংগিত নেন পেণ্ডে আলী। আজিন্দা রেনচেং কম্পানির নামে মাইইজির রসিদ দেওয়া হয়। ভিসাসহ পাসপোর্ট হাতে পেলেই আরো পাঁচ হাজার রিংগিত দেওয়ার কথা হয়। কিন্তু মাসের পর মাস যায়, ভিসা আর লাগে না, পেণ্ডে আলীকেও পাওয়া যায় না। খোঁজ নিয়ে শহিদুল জানতে পারেন, মাইইজির রসিদ দেওয়া হলেও কোনো টাকাই জমা দেননি পেণ্ডে আলী। রসিদটি ১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখের। রিহায়ারিং সিরিয়াল নম্বর ৬০৭৮০৯-টি এবং ইনভয়েস নম্বর-ইএমএম/পিটি১৪৭১৫২২৪২১৬১৫। শহিদুলের নামে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে ইনস্যুরেন্স বাবদ ২৮৬.৫২ রিংগিত, নিবন্ধন বাবদ ৮০০ রিংগিত মোট এক হাজার ৮৬.৫২ রিঙ্গিত। শহিদুল বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সেটা ভুয়া মাইইজি রসিদ।’ পেণ্ডে আলীর প্রতারণার শিকার প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মো. শহিদুল। কুয়ালালামপুরের পান্ডান ইন্দার ৯, জালান ৬/১০-এর আজিন্দা রেনচাং এসডিএন ডিএইচডি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. শহিদুলকে কৌশলে ফাঁসিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠানের তথ্য চুরি করেন পেণ্ডে আলী। গত ১০ অক্টোবর সশরীরে গেলে শহিদ নথিপত্র দেখিয়ে পেণ্ডে আলীর প্রতারণার কিছু প্রমাণ তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার জহুর বারুর কুলা পুলিশ স্টেশনে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল পেণ্ডে আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলাও করেন শহিদুল। ওই মামলার তদন্ত করছেন পুলিশ অফিসার মুহাম্মদ রিদোয়ান তান বিন আব্দুল্লাহ।

পেণ্ডে আলীর প্রতারণার আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে অনুসন্ধানে। মালয়েশিয়ার জহুর বারুর কুলা এলাকার অ্যালকমেক্স রিসোর্সেস (এম) এসডিএন বিএইচডি কম্পানি। সার্টিফিকেট অনুযায়ী এটি কম্পানির ব্যাবসায়িক ঠিকানা দেওয়া হয়েছে জহুর বারুর ৫৭-এ জালান পাহলাওয়ান ১ তামান উঙ্গাকু তুন আমিনাহ ৮১৩০০ স্কুদাই জহুর মালয়েশিয়া। প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করা হয়েছে ২০১০ সালের ২৫ জানুয়ারি; কম্পানি নম্বর ৮৮৭৫৪২-ডাব্লিউ। আর নিবন্ধন করা হয়েছে কুয়ালালামপুরের ৪.৩২ চতুর্থ তলা পেরতামা অফিস টাওয়ার কমপ্লেক্স, জালান টয়ংকু আব্দুর রহমান, কুয়ালালামপুর ঠিকানায়। অ্যালকমেক্স রিসোর্সেস নামের কম্পানিটির সার্টিফিকেট ঘেঁটে দেখা যায়, তিনজন পরিচালক রয়েছেন কাগজে-কলমে—মো. মজিব বিন আব্দুল রহমান, উশরি বিন ননিআজনি ও আলী হোসেন মো. হাবিবুর রহমান। আলী হোসেন মো. হাবিবুর রহমানই মালয়েশিয়ায় পেণ্ডে আলী নামে পরিচিত। তিনি এই কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আছেন। তবে সাবেক চারজন পরিচালক ও একজন কম্পানি সেক্রেটারির নাম উল্লেখ রয়েছে প্রফাইলে। সাবেক চারজন পরিচালকের মধ্যে তিনজনই মালয়েশিয়ান, আর একজন বাংলাদেশি, নাম মিজানুর রহমান।

কম্পানি সার্টিফিকেটের ঠিকানা ধরে সরেজমিনে গিয়ে ৮ অক্টোবর অ্যালকমেক্স নামের কোনো কম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। সেই ঠিকানায় দেখা গেছে ইন্ডিয়ান সেলুন আর বিউটি পার্লার। একইভাবে কুয়ালালাপুরের ৪.৩২ পেরতামা অফিস টাওয়ার কমপ্লেক্সের চতুর্থ তলা, জালান টয়ংকু আব্দুর রহমান, কুয়ালালামপুর ঠিকানায় গিয়েও অ্যালকমেক্স রিসোর্সেসের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে অ্যালকমেক্স রিসোর্সেস কম্পানির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পেণ্ডে আলী। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এমন কাগজে-কলমে নামসর্বস্ব এই প্রতিষ্ঠানে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ জনের বেশি কর্মী আনা হয়েছে। তারা কাজ করছে অন্য কম্পানিতে।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করা ১৮৫ জন শ্রমিকের সঙ্গেও প্রতারণা করেছেন পেণ্ডে আলী। দীর্ঘদিনের পলাতক জীবন থেকে মুক্তি পেতে বৈধকরণের জন্য তারা হাড়ভাঙা পরিশ্রমে জমানো এবং দেশের বাড়ি থেকে আনা টাকা তুলে দেয় পেণ্ডে আলীর হাতে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানের নামে ভিসা করার কথা, সেটি না করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ভিসার আবেদন করে। শেষ পর্যন্ত সেটিও হয়নি। সব টাকা হাতিয়ে তিনি পালিয়ে যান। নিজেদের শেষ সম্বলটুকু তুলে দিয়ে প্রতারিত শ্রমিকরা আরো মারাত্মক কষ্টে পড়ে যায়। সরেজমিনে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললে তাদের দুর্দশার কথা এ প্রতিবেদকের কাছে তুলে ধরে।

দালালদের অফিসে একদিন : গত বছরের ৯ অক্টোবর দুপুর ২টায় কুয়ালালামপুরের সেলাংগর এলাকার ৭৬-সি জালান মামান্ডা-১ আমপাং পয়েন্টে ৬৮০০ ভবনের তৃতীয় তলায় অভ্যর্থনা কক্ষ। সেটা ডিঙিয়ে দালাল নুরুল ইসলামের কক্ষে যাওয়া সম্ভব হলো সাংবাদিক পরিচয়ে। মুখোমুখি দুটি টেবিল নিয়ে বসে ছিলেন নুরুল ইসলাম ও তাঁর ছোট ভাই আবুল হোসেন। টেবিলের ওপর নানা রকম নথিপত্র। বেশ গর্বের সুর নুরুলের কণ্ঠে, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের নামে কিছু শ্রমিক বৈধ হচ্ছে; মানুষের জন্য কিছু কাজ করছি।’ ‘কত শ্রমিক বৈধ হয়েছে?’ ‘তিন শ থেকে চার শ জন হবে।’ ‘মোট কত শ্রমিক আছে আপনার কম্পানিতে?’ ‘চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিক। এরা বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে ভালোই চলছে।’ ‘আপনার নিজের প্রতিষ্ঠানে কতজন কাজ করছে?’ এবার আর নুরুল সুনির্দিষ্ট করে কিছু বললেন না। খেয়ালি ভঙ্গিতে বললেন, ‘আছে, কিছু আছে’।

বৈধকরণ ও বছর বছর নবায়নের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি ফি যা আছে, তার থেকে কিছু টাকা বেশি নেওয়া হয়। আর এটার সঙ্গে মালয়েশিয়ান লোকজনও আছে, তাদের বিষয়টিও দেখতে হয়।’

অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ করার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন হুমায়ুন কবীর ওরফে বোতা হুমায়ুন। খুলেছেন গ্রুপ অব কম্পানিজও। সাগুই ম্যানেজমেন্ট ও সাগুই বিল্ডার্স ছাড়াও এই গ্রুপের নামে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে হুমায়ুন কবীরের। এগুলোর অধীনে বৈধ হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক।

কুয়ালালামপুরের মসজিদ ইন্ডিয়া থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সিতিঅংসা এলাকায় হুমায়ুন কবীরের সাগুই গ্রুপের কার্যালয়। ৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় কার্যালয়ের দোতলায় গিয়ে অভ্যর্থনা কক্ষে কথা হয় কম্পানির এক্সিকিউটিভ মো. মেহেদীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মালিক হুমায়ুন কবীর দেশের বাইরে আছেন, পরে ফোনে কথা বলে নেবেন।’ পাশেই দাঁড়িয়ে হেদায়েতুল ইসলাম, বৈধ হওয়ার জন্য পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। এখনো কাগজ হাতে পাননি। এই শ্রমিক কেন বৈধতার কাগজপত্র পাননি জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, কাগজপত্র রেডি হয়ে এখনো আসেনি, তবে দ্রুতই এসে যাবে।

হুমায়ুনের অধীনে কত লোক মালয়েশিয়ায় বৈধ হয়েছে জানতে চাইলে মেহেদী বলেন, সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হবে। সরকারি ফি থেকে একটু বেশি দিয়ে বৈধ হতে হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কম্পানির মাধ্যমে যারা বৈধ হয় তারা অন্য কম্পানিতে নিশ্চিন্তে কাজ করে। কোনো কারণে কেউ ধরা পড়লে আমরা ছাড়িয়ে নিয়ে আসি।’

নিজেদের কোনো শিল্প-কারখানা না থাকলেও আপনাদের কম্পানির নামে বৈধ করেন কিভাবে—প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমরা তো একা না, এ রকম দুই শতাধিক বাংলাদেশি কম্পানি আছে, যাদের নামে এভাবে বৈধ হয়ে শ্রমিকরা ফ্রি ভিসার মতো কাজ করে। কোনো রকম পুলিশি সমস্যা হলে আমরা পাশে থাকি।’

সাগুই গ্রুপের ওই কার্যালয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর নাগাল পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা বলেন, তিনি বাংলাদেশে গেছেন।

এ প্রতিবেদক দেশে ফিরে খোঁজখবর করে ঢাকার নয়াপল্টনে সিটি হার্ট সেন্টারে দ্য সুপারস্টার নামের রিক্রুটিং এজেন্সিতে গেলেও হুমায়ুন কবীরকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

শ্রমিক বৈধকরণ-নবায়নের ৩০টি কম্পানির রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনটি ছাড়া সব কটির মালিকানা মালয়েশীয়দের। কিন্তু তারা বাংলাদেশি এজেন্টদের ব্যবসা চালানোর অনুমতি দেয় কিসের ভিত্তিতে?

স্থানীয় গার্মেন্ট ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ায় নিজের নামে কম্পানি খুলতে পারিনি। মালয়েশিয়ার নাগরিক আব্দুল্লাহ বিন হারুন কাগজে-কলমে মালিক হলেও পুরো ব্যবসাই পরিচালনা করছি আমি। গাড়ি এবং মাসে মাসে মোটা অঙ্কের বেতন দিচ্ছি তাঁকে। এ দেশে শত শত প্রতিষ্ঠান আছে, কাগজে-কলমে যেগুলোর মালিক মালয়েশীয় কিংবা চীনা, কিন্তু পরিচালনা করছে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা।’

দেশে ফিরে গত ২৯ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গিয়ে দেখা যায়, সরারচর বাজারে কমলের বয়লার আছে তিনটি, যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা বলে স্থানীয়দের হিসাব। বাজারে ভিটা আছে ১৫টি। আছে কমল দাস ও তার স্বজনদের নামে প্রায় ৩০ বিঘা জমি। প্রতারিত প্রবাসী শ্রমিকদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগেও যে কমল নিজেই চলতে পারতেন না, একটি কম্পানির বিক্রয়কর্মী হিসেবে সরারচর বাজারে কোনো মতে চলতেন, সেই কমল দাস এখন শত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কমল দাস তাঁর ভাইদের নামে ব্যবসা-বাণিজ্য চালালেও গ্রামবাসীর রোষানলের ভয়ে এখন বাড়িতে আসছেন না।

অনিল দাসের চার ছেলের মধ্যে সবার ছোট কমল দাস। বড় অজিত দাস ও অনল দাস। এলাকায় তাঁরাই কমলের সব ব্যবসা পরিচালনা করেন। এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে অজিত দাস বলেন, ‘এখানে কমলের কোনো সম্পদ নেই। এলাকার সব সম্পদ কমল মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে থেকেই। তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগও নেই।’ শ্রমিকদের সঙ্গে প্রতারণার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি আরো বলেন, ‘কমলের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ কমলের ভাতিজা রুবেল দাস অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘কাকার কাছ থেকে যারা টাকা পেত তাদের টাকা তিনি দিয়ে দিয়েছেন।’ তবে এলাকাবাসী জানায়, মালয়েশিয়া যাওয়ার পর কমলের পাঠানো টাকায় এসব সম্পদ করেছে। নিজের পাশাপাশি ভাই-ভাতিজার নামেও সম্পদ করেছে কমল।

(মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের আজ যে দুর্দশা চলছে, তার পেছনে দালালদের ভূমিকা অন্যতম—কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে সেটা স্পষ্ট হয়েছে। পেণ্ডে আলী, কমল দাস, নুরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীরদের মতো অনেক দালালের অপতৎপরতার কথা জানা গেছে। মালয়েশিয়ায় বসে নিজ দেশের শ্রমিকদের ছলে-বলে-কৌশলে শোষণ করে করে তারা আজ অঢেল সম্পদের মালিক। এই দালালদের নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলছে।সু্ত্র: কালের কন্ঠ



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি