সোমবার,২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১১ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



বর্ষায় রূপ বদলায় চলনবিল


প্রবাস সংবাদ :
২৫.০৭.২০১৯

নাজমুল ইসলাম:

‘বর্ষা মৌসুমে রূপ বদলে যায় চলনবিলের। শুষ্ক মৌসুমে এ বিলাঞ্চলে পানি না থাকলেও বর্ষায় চলনবিল যেন সমুদ্রকেও হার মানায়। শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ চলে বিলের জমিতে। শুষ্ক মৌসুমে সবুজের সমাহার আর বর্ষায় পানির টইটুম্বর- এ যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি।’

ভ্রমণপিপাসু মানুষ এই সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে একটু সময় পেলেই বিনোদনের জন্য ছুটে আসে। শহরের যান্ত্রিক ও কোলাহল থেকে বেরিয়ে একটু প্রকৃতির কাছাকাছি এসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিছুক্ষণের জন্য হলেও সমুদ্র সৈকত ভ্রমণের পিপাসা মেটাবে।


নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বিস্তৃত ৯টি উপজেলার অংশজুড়ে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঐতিহাসিক চলনবিল।

বর্ষার সময় থেকে আগষ্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর পর্যন্ত চলনবিল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। আসলে চলনবিল অনেক ছোট ছোট বিলের সমষ্টি। বর্ষায় এই বিলগুলোতে জলপ্রবাহ বেড়ে একসঙ্গে বিশাল এক জলাভূমির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, সিংড়া, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ, তাড়াশ, পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর এবং নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলাজুড়ে এ বিলের বিস্তৃতি। বিলের দক্ষিণ-পূর্ব পাবনা জেলার নুন নগরের কাছে অষ্টমনীষা পর্যন্ত বিস্তৃত।

নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে গুমানী পাড়ের কাছিকাটা ও সিংড়াতে এ বিলের সবচেয়ে বড় অংশ। নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া থেকে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ভাদাই নদীর পূর্ব পাড় পর্যন্ত বিলের পূর্ব সীমানা। চলনবিলের সবচেয়ে বড় অংশ পড়েছে নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া উপজেলায়। চলনবিলের বেশ কয়েকটি বিল পড়েছে এ দুই উপজেলায়।

 

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর থেকে বনপাড়া সড়কে প্রবেশ করলে কিছু দূর যাওয়ার পর হরিণচড়া নামক এলাকা থেকে চলনবিলের যে অংশের দেখা মিলবে সেটা সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মধ্যে। এখান থেকে দক্ষিণ দিকের পুরো অংশটাই এই জেলার অন্তর্গত। পাবনার চলনবিল চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চলনবিলের মূল অংশ।

গাজনা, বড় সোনাপাতিলা, ঘুঘুদহ, চিরল, গুরকা ইত্যাদি বড় আকারের বিলগুলোর অবস্থান পাবনা জেলায়। চলনবিলের বুক চিরে নির্মাণ করা হয়েছে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক। মহাসড়কের দুই পাশে বর্ষায় শুধু অথৈই জলরাশি।

সড়কের দুই পাশে বর্ষায় জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, পাল তোলা ছোট নৌকা, নৌকায় জন-মালামাল পরিবহন, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি সমারোহে চলনবিলের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় দুই চোখ ভরে। নিজস্ব গাড়িতে গেলে ইচ্ছেমতো থেমে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব।

এছাড়া চলনবিলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মা জননী সেতু। সেখান থেকে একটু এগিয়ে গেলেই কুন্দোইল জোড়া ব্রিজ। মা জননী সেতুতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার মতো। ঘাসি দেওয়ানের মাজার গেলে সকাল সকাল যেতে হয়। বিশেষ করে শুক্রবারে সেখানে ভক্তদের ভিড়ে জমে ওঠে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি