মঙ্গলবার,২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



মালয়েশিয়ায় সক্রিয় দালাল চক্র: সাবধান করলেন হাইকমিশনার


প্রবাস সংবাদ :
২২.০৭.২০১৯

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:

‘মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের নিজ দেশে ফিরে যেতে ”ব্যক ফর গুড” (বিফোরজি) নামক নতুন কর্মসূচী ঘোষণার পরপরই সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র।’

সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে রসালো ষ্ট্যাটাস দিয়ে আকৃষ্ট করছে অবৈধ কর্মীদের। এসব চটকদার কথা দালাল বা প্রতারকদের সঙ্গে লেনদেন না করতে সতর্ক করলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম। তিনি সোমবার তার কার্যালয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, মালয়েশিয়া সরকারের ঘোষিত এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় প্রবেশের কোন তথ্য নেই বা ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করেছে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অবস্থান করছে এমন ব্যক্তিরা সহজ শর্তে মালয়েশিয়া ত্যাগের সুযোগ পাবেন। এই কাজকে ত্বরান্বিত করতে দূতাবাসের ২০ জন কর্মককর্তাকে সম্পৃক্ত রা হয়েছে।

এ কর্মসূচি ০১ আগস্ট শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত চালু থাকবে। মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট এবং নিশ্চিত (কনফার্মড) বিমান টিকিটসহ আবেদন করতে হবে এবং জরিমানা ও স্পেশাল পাস বাবদ সাকুল্যে ৭০০ মালয়েশিয়ান রিংগিত জমা দিতে হবে। ইমিগ্রশন কর্তৃপক্ষ আবেদনের এক কার্যদিবসের মধ্যেই স্পেশাল পাশ বা বহির্গমনের অনুমতি প্রদান করবে। এই অনুমতি প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই মালয়েশিয়া ত্যাগ করতে হবে। আবেদনকারীদের সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন সমগ্র দেশে ৮০ টির অধিক বুথ স্থাপন করেছে।

এ কর্মসূচির কাজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোন ৩য় পক্ষ বা ভেন্ডর বা এজেন্ট নিযুক্ত করা হয় নি। কোন মাধ্যম ছাড়াই আবেদনকারীকে সরাসরি নিকটস্থ ইমিগ্রেশন অফিসে স্বশরীরে হাজির হতে হবে। হাইকমিশনার বলেন, যদি কেউ ৩য় পক্ষ বা ভেন্ডর বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ভূয়া তথ্য প্রদান করে আর সেটি প্রমানিত হয় তাহলে আবেদন কারির জেল- জরিমানা হতে পারে। তাই আবেদনকারি সঠিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য হাইকমিশনের পরামর্শ নিতে আহবান জানিয়েছেন তিনি।

হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ইচ্ছুক অবৈধ প্রবাসীদের দেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানিমুক্ত সহজ পদ্ধতি প্রবর্তন এবং জেল জরিমানা ব্যতিরেকে দেশে ফেরা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করে আসছিল। ফলশ্রুতিতে মালয়েশিয়া সরকার ”বিফোরজি’ কর্মসূচিটি চালু করেছে। কেননা বিদ্যমান পদ্ধতিতে গ্রেফতার, জরিমানা ও কারাবারণ শেষে ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে অবস্থানের পর দেশে ফেরত যেতে হয়; আত্মসমর্পনকারীদের স্পেশাল পাশ বা বহির্গমন অনুমতি পেতে ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয় এবং ৩১০০ রিংগিত বা তার বেশি জরিমানা দিতে হয় যা তাদের জন্য কষ্টকর।

এদিকে এ কর্মসূচির সুফল প্রাপ্তির জন্য হাইকমিশন ব্যাপক প্রচারনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে এ কাজকে সুষ্ট ভাবে পরিচালনার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গ্রহণ করা হয়েছে। এ কমিটির অধীনে সাপোর্টার কাজের জন্য আরোও ২০ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যাদের যে তথ্য এবং ডকুমেন্ট প্রয়োজন তা দ্রুত সরবরাহ করার যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
মিশনের চলমান প্রবাসীদের কন্স্যুলার সেবা দিতে যেমনি দেশটির প্রতিটি প্রদেশে কাজ করছে ঠিক তেমনি প্রতিটি প্রদেশে ট্রাভেল পারমিট সেবা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন হাইকমিশনার।

যে সকল অবৈধ অভিবাসী দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী তারা এই কর্মসূচীর সুযোগ গ্রহণ করে উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত এই কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে অভিবাসন বিভাগকে সহযোগিতা করবে রয়েল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম)। ১৯ জুলাই মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালক দাতুক খাইরুল দজাইমী দাউদ বলেছেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ বা সংগ্রহের জন্য দূতাবাস ও অভিবাসন কর্যালয়ে যাওয়ার পথে অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা হবে না।

বিফোরজি প্রকল্পের ব্যাখ্যা করতে যেয়ে তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র পিনিনসুলার মালয়েশিয়ার অবৈধ অভিবাসীরা এ সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। যারা এরিমধ্যে আটক হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এ সুযোগ কার্যকর হবে না।
অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশকে হ্রাস করার পাশাপাশি দপ্তর পরিচালনার খরচ এবং অপরাধ সংক্রমের ঝুঁকি হ্রাস করা এ কর্মসূচীর অন্যতম একটি লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন অভিবাসন মহা পরিচালক।

আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই সুযোগ পাওয়ার পরও যারা মালয়েশিয়ায় অবস্থান করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ও জানান দিলেন ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি