মঙ্গলবার,২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



যে কারণে বায়রার মহাসচিব নোমানের পদত্যাগ চান ব্যবসায়ীরা


প্রবাস সংবাদ :
০৮.০৭.২০১৯

 

নাজমুল ইসলাম : 

‘জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস- বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমানের অপসারণ চাইলেন সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের একাংশ।’

রবিবার বায়রা সচিবালয়ে সভাপতি বরাবর এক চিঠিতে এই আবেদন করেন তারা। বায়রা তৃণমূল ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সদস্য আব্দুল আলিম, কে এম মোবারক উল্লাহ শিমুল, ফজলুল মতিন তৌহিদ, মতিয়ার রহমান খান, টিপু সুলতান, আরিফুর রহমান, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং মিয়া মোহাম্মদ উল্লাহ। স্বাক্ষরকারি সকলেই সম্প্রতি সৌদি ভিসা সেন্টার বিরোধী আন্দোলনের নেতা। চিঠিতে বায়রা মহাসচিবের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৮ টি অভিযোগ আনা হয়।

মহাসচিবকে অপসারণের ব্যাপারে মোবারক উল্লাহ শিমুল প্রবাস সংবাদকে বলেন, আমরা জানি বায়রার বর্তমান মহাসচিব এর বিরুদ্ধে দুর্নিতির প্রমাণ সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ হয়ে আসছে তা আমরা সবাই জানি। আজকে আমি বায়রার একজন সদস্য হিসেবে লজ্জা বোধ করছি । বিভিন্ন অনৈতিক তথ্য পেয়ে আমরা সাধারণ সদস্যরা হতবাক । কার উপর নির্ভর করে আমাদের নেতৃত্ব দেব, রক্ষক যদি ভক্ষক হয় তাহলে তো আমাদের আর কোন উপায় নেই। তাহলে আমরা বায়রার সাধারণ সদস্যরা কোথায় যাব, কার কাছে যাব? অতীতে তো বায়রাকে নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠেনি মিডিয়া দুর্নীতি নিয়ে কোন নিউজ হয়নি। অর্থাৎ তিনি আমাদের পুরো সদস্যদের ছাত্র মনে করেন এবং সে নিজেকে শিক্ষক হিসেবে দাবি করেন। বায়রার তৃণমূল ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে উনার বিরুদ্ধে আমরা স্পেসিফিক আটটি অভিযোগ উত্থাপন করেছি। যাতে বাইরার থেকে ওনাকে অপসারণ করা হয়। বায়রার বর্তমান মহাসচিবের কোন অনৈতিক কর্মকান্ডকে আমরা কোনভাবেই সমর্থন করি না, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারী আরেক সদস্য আরিফুর রহমান বলেন ,সদস্যরা সবাই চাই যে সঠিক মানের একটি ট্রেনিং সেন্টার হোক কিন্তু এটা কখনোই অনুমোদন বিহীন নয়। অনুমদিত একটি ট্রেনিং সেন্টার করা আমাদের লক্ষ্য। যে সকল মহিলারা গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে যাবেন তাদেরকে আরো ২০ হাজার টাকা করে দেয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে পারামর্শ দেয় বর্তমান মহাসচিব। এর পূর্বে মন্ত্রণালয়কে দেয়া পরামর্শ ছিল মহিলারা যারা বিদেশ বিদেশ যাবেন বিএমইটিতে ২০ হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে। তাহলে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে একটা শৃঙ্খলা থাকবে একটা দায়বদ্ধতা থাকবে । এখন তো যখন তখন মহিলারা বিদেশ থেকে যে কোন কারণেই চলে আসে এবং বিভিন্ন সময় বানোয়াট কথাবার্তা বলে। এখন কি মনে করে নোমান সাহেব এ পরামর্শ মন্ত্রণালয়কে দিলেন । ভিসা সহ সব ঠিকঠাক থাকলেও পুরুষরা কিন্তু যাচ্ছে না সমস্যার সমাধান না দিয়ে তিনি নিজে নিজে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ সকল সদস্যরা খুবই ক্ষুব্ধ।

এলাহি এন্টারপ্রাইজ নামক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক দাতো এবাদত হোসেন বায়রা মহাসচিব সম্পর্কে প্রবাস সংবাদকে বলেন, মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটে  তিনি ছিলেন না। তবে সিন্ডিকেটের একটি বেনিফিট তিনি পেয়েছেন। পরবর্তীতে সৌদি ড্রপবক্স করার জন্য তিনি যে পাঁয়তারা করছিলেন সেখানে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তার লাইসেন্স ড্রপবক্স এর মধ্যে ছিল। কিন্তু যখন আমরা আন্দোলন করি তখন সে বলে আমি কিছুই জানিনা আমি ড্রপবক্স এর সঙ্গে নেই কিন্তু তার লাইসেন্স ড্রপবক্স এর মধ্যে ছিল । তার কোনো কার্যক্রম বা কথা আমরা বিশ্বাস করতে পারি না তিনি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। সে প্রতিটা সিন্ডিকেশনে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ইদানিং তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা খুবই ব্যথিত বাইরে এনজিও সহ বিভিন্ন জায়গায় ইসি কমিটির অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত পদক্ষেপে সে টাকাগুলো খরচ করেছে এই টাকা সাধারণ বায়রার সদস্যদের টাকা আমরা আর কোন অবস্থাতে তাকে দেখতে চাই না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। আমাদের যে বাইরার প্রেসিডেন্ট একজন মুক্তিযোদ্ধা, এমপি, ভালো করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাকে যেন পদত্যাগ করতে বাধ্য করে।

এর আগে মহাসচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দিয়ে পদত্যাগ করেন বায়রার উপদেষ্টা সাবেক সচিব দলিলউদ্দিন মন্ডল।

দলিলউদ্দিন মন্ডলের অভিযোগ বিষয়ে বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, একটি বড় সংগঠনে নানা মতের মানুষ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি