মঙ্গলবার,২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ইং,১২ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ,



সফল ওমান প্রবাসী এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী
টেকনিক‌্যাল কাজ শিখে বিদেশ আসলে সাফল্য আসবে


প্রবাস সংবাদ :
০৩.০৬.২০১৯

 

ওমান প্রবাসী এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী। চট্টগ্রামের সন্দীপ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের শাপলা আবাসিক এলাকার কৃতি সন্তান এম, এ, রহমান ইউসুফ  চৌধুরীর বেড়ে ওঠা গ্রামেই।  দেশেই ব্যবসা করছিলেন তিনি। এরইমধ্যে তার এক প্রবাসী নিকটআত্মীয় ভাল বেতন ভাতার কথা বলে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। অনিচ্ছা সত্বেও ২০০১ সালে ভাগ্যবদলের আশায় বেছে নেন প্রবাসজীবন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে গিফ্ট ভিলেজ ডিসকাউন্ট সেন্টার নামের একটি হাইপার মার্কেটে একজন কাস্টমার রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে তার চাকরি জীবন শুরু হয়। পরে তার বুদ্ধিমাত্তা ও সততার মাধ্যমে খুব স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ ৯ বছর প্রতিষ্ঠানটির এই পদে থেকে অন্তত ২০০ বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন দেশের অসংখ্য লোককে বিভিন্ন সেকশনে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। এরপর তিনি পাড়ি জমান ওমানে। বর্তমানে তিনি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বসবাস করছেন। ভিলেজ হাইপার মার্কেট এন্ড শিনাজ মল এর জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

একান্ত সাক্ষাতকারে এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী তার প্রবাসজীবনের সফলতার গল্পগুলো শেয়ার করেছেন প্রবাস সংবাদের পাঠকদের জন্য।

দুবাই থেকে ওমানে আসার গল্প জানতে চাইলে এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী বলেন, ২০০৩ সালে ওমানের ন্যাশনাল মার্কেট ফর গিফট্স এন্ড শপিং সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিঃ ইয়াসিরের সাথে আমার দুবাইতে পরিচয় হয়। তিনি আমার খুবই সুনাম করলেন এবং আমাকে তার কোম্পানিতে চাকরি করার প্রস্তাব দিলেন। আমি বললাম আমাকে তো এই কোম্পানি ছাড়বে না। উনি তখন বললেন, আপনি রাজি থাকলে বাকিটা আমি ব্যবস্থা করবো। কেননা আমার ব্যবসা ডেভেলপ করার জন্যে আপনাকে আমাদের প্রয়োজন। তখন আমি সিদ্ধান্ত দিলাম জি আমি ওমান যাবো। পরে আমি ২০১০ সালের মাঝামাঝিতে ওমানে সেই কোম্পানিতে যোগদান করি। এই কোম্পানিতেও আমার অবস্থান ও সার্বিক উন্নতি দেখে ভিলেজ হাইপার মার্কেট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিহাব হামেদ আল জাবরি আমাকে ওনার ব্যবসার অবস্থান জানালে আমি বর্তমান এই কোম্পনিতে এসে একটা দোকান থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান করে, আলহামদুলিল্লাহ একটা গ্রুপে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী বলেন, আমি সব সময় আমার সিনিয়র পারসনদের প্রতি বেশি বেশি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। আমি যখন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা করতাম, তখন তারা আমার প্রতি প্রশংসার পাশাপাশি আমাকে অনেক কিছুতেই সহযোগিতা করতো এমন কি অনেক সময় তাদের দায়িত্বগুলো আমার হাতে ছেড়ে দিতেন এবং সঠিক পরামর্শ দিতেন। আর এটিই ছিলো আমার প্রবাস জীবনের প্রকৃত সফলতার ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন। এর পর ধাপে ধাপে আমাকে আর পিছনে তাকাতে হয় নাই।

প্রবাসী জীবনের ভাল এবং মন্দ অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী জানান, প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে যখন কোন ভিনদেশি আমার নিজ দেশের প্রশংসা করে তখন। আর সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই যখন কোন ভিনদেশি ‘ বাঙালী’ বলে গালি দিয়ে কথা বলে তখন। এছাড়াও আরও বেশি কষ্ট পাই যখন উৎসবের দিন আসে যেমন ঈদ, কোরবানী, বা কোন দিবস দুঃখে সুখে দেশের মানুষের পাশে থাকতে পারি না বলে, তাই।

বাংলাদেশীদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এই প্রবাসী। আরো কী করতে চান, আগামী দিনের স্বপ্নগুলো জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। জবাবে ইউসুফ চৌধুরী বলেন, আমি আমার সাধ্যমত বাংলাদেশীদের বিভিন্নভাবে কাজে লাগিয়েছি, কাজ দিচ্ছি, এবং আরও দেবো। তবে সবার প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে যে তারা যেন ন্যূনতম ৮ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে বা যেকোনো একটি টেকনিক্যাল কাজ শিখে আসে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে অনেক সময় কোন ভালো চান্স পেয়েও কাজে লাগানো যায় না, যোগ্যতা না থাকার কারণে। সেক্ষেত্রে নিজেকে খুবই লজ্জাবোধ করতে হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবাসে অন্যের কষ্টের কাজ দেখে নিজেকে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হতে হয়েছে। নিজেকে আরও বেশি সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে সেখান থেকেও অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী তার একটিই চাওয়া। আমরা প্রবাসী। এয়ারপোর্টে আমাদেরকে (প্রবাসী) যেন হয়রানি করা না হয়।

দুই পুত্র সন্তানের জনক প্রবাসী এম, এ, রহমান ইউসুফ চৌধুরী স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ জীবন সন্দীপেই কেটেছে। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে সন্দ্বীপের এক ঐতিহ্যবাহী ফ্যামেলির মাঈন উদদীন মাস্টারের দ্বিতীয় কন্যা মারজাহান বেগম সুমির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি